শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

১১ দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের ২ সদস্যের মৃত্যু

১১ দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের ২ সদস্যের মৃত্যু

বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কে মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে দুই সন্তানকে হারিয়ে গভীর শোকে নিমজ্জিত হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একটি পরিবার। গত ৩ অক্টোবর শনিবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী বড় ছেলে শাহ আদ্রীর মৃত্যুর পর ১৪ অক্টোবর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তাঁর ১০ বছর বয়সী ছোট ভাই শাহ ওয়াদি।
পরপর দুই সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাঁদের বাবা-মা। স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্তান হারানোর শোকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বাবা শাহ আসাদ। মা-ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের মেজো ছেলে শাহ আয়ানকে ঘিরেই এখন তাঁদের বেঁচে থাকার অবলম্বন।
নিহত দুই ভাইয়ের পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ি গ্রামে। প্রায় তিন দশক ধরে পরিবারটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বড় ছেলে শাহ আদ্রী সম্প্রতি সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। গত ৩ অক্টোবর স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। এ সময় নিউইয়র্কের মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনার শিকার হন। গুরুতর আহত হওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
কর্মজীবনের শুরুতেই আদ্রীর এমন অকালমৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। কিন্তু সেই শোক সামলে ওঠার সুযোগও পায়নি পরিবারটি।
বড় ভাইয়ের মৃত্যুর ঠিক ১১ দিন পর, ১৪ অক্টোবর বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে অবস্থিত মন্টেফিওর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শাহ ওয়াদি।
স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওয়াদি তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে তার জ্বরের অন্তর্নিহিত কারণ কিংবা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বড় ছেলের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর ছোট ছেলেকেও হারানোর ঘটনা পরিবারটির জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
নিহত দুই ভাইয়ের স্বজন তাজুল বাহারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই সন্তানের মৃত্যুর পর বাবা শাহ আসাদ শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
অন্যদিকে, দুই ছেলেকে হারিয়ে গভীর শোকে রয়েছেন তাঁদের মা। মেজো ছেলে শাহ আয়ানকে জড়িয়ে ধরে তাঁর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবারের পরিবেশ। তবে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার পর্যন্ত বাবা শাহ আসাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা কিংবা হাসপাতাল থেকে ছাড়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও শাহ আসাদের পরিবারের সঙ্গে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের যোগাযোগ রয়েছে।
শাহ আসাদ চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মো. ছাদেক মিয়ার ছোট ভাই। বড় ছেলে আদ্রীর মৃত্যুর পরই সংগঠনটির পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে ছোট ছেলে ওয়াদির মৃত্যুর খবরে প্রবাসী স্বজনদের পাশাপাশি চুনারুঘাটের ফুলবাড়ি গ্রামের পরিচিতজনদের মধ্যেও নতুন করে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা জানান, জ্বরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ওয়াদি। তার জানাজার নামাজ গত ১৫ অক্টোবর বাদ মাগরিব ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ১৬ অক্টোবর বাদ জুমা তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। 
পরিবারের স্বজন কামরুল হাসান দুই ভাইয়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। 
 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz